ই নামজারি করার নিয়ম

জমি ক্রয় করা হলে রেজিস্ট্রি করে নিতে হয়। রেজিস্ট্রি করা মানে শুধুমাত্র কেবল জমির দলিল কয়টি তো মালিকের নামে হলো। কিন্তু ক্রয় করার পর বা দলিল রেজিস্ট্রি করার পর আবার সেই কয়কৃত মালিক কে তার নামে জমিটি করার জন্য বা অফিসিয়াল ভাবে তার নামে জমিটি করার জন্য অবশ্যই নাম জারি করে নিতে হয়। এটি আমাদের স্থানীয় ভাষায় অনেক এলাকায় খারিজ করাও বলা হয়ে থাকে।

একসময় এই নামজারি করতে হলে অফিসে গিয়ে নির্ধারিত ফর্মে বিভিন্ন কাগজপত্র দিয়ে নামজারি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সকল ভূমির কাজকর্ম গুলি হয়ে থাকে। তাই এখন অনলাইনে ই নামজারি করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই নির্ধারিত ফর্মে অর্থাৎ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করলে অবশ্যই ই-নামজারি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। অফিসে গিয়ে এই কাজকর্ম গুলি দেখে আসতে হবে না।

আপনি নিজে নিজেই আপনার এই নামদারের বিষয়টি আবেদন করার পর সেই ওয়েবসাইটে ঢুকে কি অবস্থায় রয়েছে সেটি দেখে নিতে পারবেন। তবে আপনাকে এই নামজারি আবেদনটি করতে হলে অনেকগুলি তথ্য এখানে সংযোজিত করতে হয়। সেই তথ্যগুলি যদি ঠিকমত না দেওয়া হয় তাহলে কখনোই কার্যটি সম্পাদন হবে না।

সুষ্ঠুভাবে কাজটি সম্পাদন করার জন্য অবশ্যই সেই ওয়েবসাইটে ই নামজারি করতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে বা কোন কোন কাগজ গুলি দিতে হবে কোন কোন তথ্য গুলি সংযোজন করতে হবে সকল তথ্য গুলি এখানে দেওয়া থাকবে। ভূমি অফিসগুলোতে গ্রাহকদের নানা ধরনের সেবা দিতে হয়। এবং অল্প লোকও বলে এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সেবা দিতে হিমশিম খাওয়ার কারণে প্রত্যেকটি অফিস থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২০২২ সালের পহেলা অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের সকল জায়গায় ই নামজারি পদ্ধতি শুরু হয়ে গেছে।

তাই এখন আর ভূমি অফিসগুলোতে ছুটোছুটি করতে হবে না সকল কাজ বাড়িতে বসে স্মার্টফোনের সাহায্যেই করে ফেলতে পারবে গ্রাহকেরা। বর্তমানে এই ই সেবা চালুর কারণে সকল জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হল বলেই মনে করা হয়। কারণ ভূমি অফিসের এই জটিল জটিল কাজ গুলি করতে মানুষকে অনেকদিন পর্যন্ত একটি কাজ করার জন্য পাকাপাকি পারতে হতো।

কিন্তু বর্তমানে এখন আর ছবি অফিসের দরজায় না এসেও ভূমি অফিসের সকল কাজ গুলি সম্পাদন করা সম্ভব। আজকে যারা আমাদের এই পোস্টে এসেছেন ই নামজারি বিষয়টি কিভাবে করা যায় তা দেখতে এখন আমরা তাদের উদ্দেশ্যে দেখাবো যে কিভাবে ই নামজারি ফর্মটি পূরণ করা যায় ঘরে বসেই। এই সিস্টেম অর্থাৎ ই সেবা চালুর পর থেকে আর ম্যানুয়ালি কোন ফি গ্রহণ করা হবে না। সকল ধরনের ফ্রি এখন অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে সকল গ্রাহককে।

ফলে ৩০শে সেপ্টেম্বরের পর থেকে নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহ ফি আর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা ক্যাশে দেওয়া যাবে না। ই নামজারি করার জন্য গ্রাহককে অবশ্যই ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটে গেলে সেখানে লেখা থাকবে যে,’অনলাইনে আবেদন করুন’ এবং ‘আবেদন ট্রাকিং’ নামে দুইটি অংশ রয়েছে। বাম পাশে অনলাইনে আবেদন করুন অংশের নিচে নামজারি আবেদনের জন্য ক্লিক করুন লেখায় আপনাকে ক্লিক করতে হবে। ওইখানে ক্লিক করলে একটি আবেদন ফরম আসবে। নির্ভুলভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে সেই আবেদন ফরমটি পূরণ করতে হবে আপনাকে। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিয়ে আপনাকে আবেদনটি সম্পূর্ণ করতে হবে।

এভাবে আবেদন করার পর আপনাকে অবশ্যই মাঝেমধ্যে খোঁজ রাখতে হবে যে আপনার আবেদনটি কি পর্যায়ে রয়েছে। সেই খোঁজ রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই আবেদন প্যাকিং করুন সেই অংশে গিয়ে ক্লিক করে আপনার আবেদনটি দেখে নিতে পারেন কি অবস্থায় রয়েছে আবেদন ফরমটি। যদি কোথাও আবেদন ফরমটি আটকে যায় আপনি অবশ্যই অফিসে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।