জমির দাগ নম্বর ও খতিয়ান তথ্য

মুঘল আমলে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে তারা ভূমি অঞ্চলকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত করেন। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের তারা নাম দেন মৌজা। এখান থেকেই সাধারণত মৌজা কথাটি এসেছে বলে মনে করা হয়। এবং প্রতিটি মজার এক একটি ক্ষুদ্রাংশ জমিকে অর্থাৎ একই মালিকের একটি একটি জমিকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।

অর্থাৎ এখানে নম্বর অর্থাৎ সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করে সেই মৌজায় মোট কতগুলো জমি রয়েছে তার হিসাব রাখা হয়। এবং সেগুলোকেই দাগ নম্বর বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। প্রতিটি জিনিসেরই হিসাব রাখার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়ে থাকে। তাতে হিসাবগুলি সঠিকভাবে রাখা সম্ভব হয়। তাহলে ভূমি তো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থাৎ মানুষের দেশের ব্যক্তির সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো জমিজমা। তাই জমিজমা হিসাব রাখার জন্য এভাবে দাগ নম্বর বা সংখ্যা নম্বর দিয়ে সেটির হিসাব করা হয়ে থাকে।

তাই বলা হচ্ছে যে জমির দাগ নম্বর অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকে। এরপর আসি আমরা খতিয়ান বা পথ চাকি এই বিষয়টি নিয়ে। খতিয়ান বা পর্চা আসলে একই জিনিস বা একই কাগজ। রাষ্ট্রীয়ভাবে করা জরিপের মাধ্যমে জমি জমার মৌজাভিত্তিক একবার একাধিক জমি মালিকের ভুল সম্পত্তির বিবরণ এই খতিয়ান বা পর্চা দ্বারা করা হয়ে থাকে।

তাই বলা যায় যে আইনের ভাষায় খতিয়ান হলো জরিপের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬২ তে ভূমি মালিকানা বা দাগের বর্ণনা সহ যে নথি বা চিত্র প্রকাশিত হয় তাকে খতিয়ান বলা হয়ে থাকে। এই খতিয়ানে ভুল মালিকের বিভিন্ন তথ্য সংবলিত থাকে। তাই খতিয়ান জমির জন্য অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হয়ে থাকে। খতিয়ানে মৌজার নাম, মৌজার দাগ অনুসারে এক বা একাধিক ভূমি মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, মালিকানার বিবরণ, জমির বিবরণ বা শ্রেণি, মৌজা নম্বর, মৌজার ক্রমিক নম্বর অর্থাৎ (জে এল নং), সীমানা জমির শ্রেণী দখলকারীর নাম অংশ ইত্যাদি খতিয়ানে উল্লেখ করা থাকে।

তাই দেখা যাচ্ছে যে কোন জমির ক্ষেত্রে খতিয়ান অবশ্যই বিশেষ প্রয়োজনীয় একটি কাগজ। এখানে অর্থাৎ খতিয়ান দ্বারা জমিটি কাল কত পরিমাণ জমি জমির দাগ নম্বর সকল বিষয় এখানে উল্লেখ থাকার কারণে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে ধরা হয়ে থাকে। তাই আপনারা যদি জমির খতিয়ান আপনাদের কাছে না থেকে থাকে তাহলে আপনারা এটি ভূমি অফিস বরাবর আবেদন করে নিয়ে নিতে পারেন। খতিয়ান মূলত প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে খাজনা আদায় করার জন্য বাংলাদেশ সরকার খতিয়ান নং বা খতিয়ান এর মত বিষয়টি তৈরি করা হয়েছে।

কারণ ভূমি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব সরকারের একটি আয়ের বড় অংশ বলে মনে করা হয়ে থাকে। তবে প্রাচীনকালে আয়ের মূল জায়গায় ছিল এই ভূমি। অর্থাৎ জমির খাজনা আদায় করে তখনকার রাজ রাজারা রাজ্য চালাতেন বলে জানা যায়। আবার আরেকটি বিষয় ক ভাবা যেতে পারে সেটি হল ভূমির বা জমির মূল মালিক কে সনাক্ত করার জন্য খতিয়ান নম্বর ব্যবহার করা হয়। আপনারা যদি এই খতিয়ান বা পর্চা অনলাইন থেকে সংগ্রহ করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

অর্থাৎ আপনাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই https://eporcha.gov.bd/khatian লিঙ্কে প্রবেশ করে সেখানে প্রথমে আপনার নিজবিভাগ এরপর নিজ জেলা এরপর নিজ উপজেলা এবং নিজ ইউনিয়ন পরপর সিলেক্ট করে ক্লিক করবেন তাহলে আপনার মৌজার নাম চাইবে। তখন আপনি আপনার যে মৌজায় জমি রয়েছে সেই মৌজার নাম জমির মালিকের নাম পিতা অথবা স্বামীর নাম দাগ নম্বর খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি তথ্য প্রদান করার পর আপনার সামনে অবশ্যই আপনার খতিয়ানটি প্রদর্শিত হবে। তখন আপনি যদি সেই খতিয়ানটি ডাউনলোড করে নিতে চান তাহলে অবশ্যই ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করে বাহির করে নিবেন।